১০০% প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আনলিমিটেড এক্সাম সিস্টেমে যুক্ত হোন।
সন্ধি শব্দের অর্থ ‘মিলন’। দ্রুত উচ্চারণের ফলে পরস্পর সন্নিহিত দুটো ধ্বনির মিলনে যে ধ্বনিগত পরিবর্তন হয় তাকেই বলা হয় সন্ধি। এই মিলন কয়েক রকম হতে পারে। যেমন- ধ্বনির মিলন বা রূপান্তর বা ধ্বনি বিকৃতি বা পরিবর্তন।
সন্ধি কেন প্রয়োজন?
ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
সন্ধির ফলে ভাষা সাবলীল ও শ্রুতিমধুর হয়।
ভাষার উচ্চারণের সৌন্দর্য ও শ্রুতিমাধুর্য বৃদ্ধি, ভাষাকে প্রাঞ্জল ও সংক্ষিপ্ত করতে সন্ধির প্রয়োজন অপরিসীম।
সন্ধি মূলত সংস্কৃতগত; অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সন্ধি। বাংলা ভাষার নিজস্ব উচ্চারণ আলাদা বলে বাংলা ভাষার সন্ধির নিয়মও আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বাংলা মৌখিক ভাষার সন্ধি বা ধ্বনি পরিবর্তনের যে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা ‘খাঁটি বাংলা সন্ধি’ নামে পরিচিত।
বাংলা সন্ধি দুই প্রকার। যথা: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি।
সংস্কৃতগত সন্ধি তিন প্রকার। যথা: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি, বিসর্গ সন্ধি।
স্বরসন্ধি: ১। সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটি লোপ পায়। যেমন-
অ+এ=এ (অ লোপ): শত+এক=শতেক, কত+এক=কতেক।
আ+আ=আ (একটি আ লোপ): শাঁখা+আরি=শাঁখারি, রূপা+আলি=রূপালি।
আ+উ=উ (আ লোপ): মিথ্যা+উক=মিথ্যুক, হিংসা+উক=হিংসুক।
ই+এ=ই (এ লোপ): কুড়ি+এক=কুড়িক।
২। কোনো কোনো স্থানে পাশাপাশি দু’টি স্বরের শেষেরটি লোপ পায়। যেমন— যা+ইচ্ছা+তাই=যাচ্ছেতাই।
ব্যঞ্জনসন্ধি: ছোট + দা = ছোরদা, আর + না = আন্না, চার + টি = চারটি, দূর + ছাই = দুচ্ছাই, নাত + জামাই = নাজ্জামাই, বদ + জাত = বজ্জাত, হাত + ছানি = হাতছানি, সাত + শ = সাশশ, কাঁচা + কলা = কাঁচকলা, নাতি + বৌ=নাতবৌ, ঘোড়া + দৌড় = ঘোড়দৌড়।
১। সূত্র: অ/আ + অ/আ = আ (উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়)
অ+অ=আ: নব + অন্ন = নবান্ন, সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত, হিম + অচল = হিমাচল।
অ+আ=আ: সিংহ + আসন = সিংহাসন, দেব + আলয় = দেবালয়, জল + আতঙ্ক = জলাতঙ্ক।
আ+আ=আ: মহা + আশয় = মহাশয়, বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, কারা + আগার = কারাগার।
সম্পূর্ণ MCQ লিস্ট এবং মডেল টেস্ট প্যানেল আনলক করতে Full Access প্যাকেজে আপগ্রেড করুন।
ড্যাশবোর্ডে অ্যাক্সেস নিন