১০০% প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আনলিমিটেড এক্সাম সিস্টেমে যুক্ত হোন।
মেসোপটেমিয়া: গ্রিক শব্দ মেসোপটেমিয়া শব্দের অর্থ হল দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমি। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ হতে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে ইরাকের টাইগ্রিস বা দজলা ও ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদী দুটির মধ্যবর্তী অঞ্চলে মেসোপটেমিয়া সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। ইরাক (অধিকাংশ), তুরস্ক, সিরিয়া এবং ইরানের অঞ্চল এই সভ্যতার অন্তর্গত ছিল। পৃথিবীর প্রাচীনতম মেসোপটেমিয়া পরিচিত ছিল সভ্যতার আঁতুড়ঘর হিসেবে। ৪টি পর্যায়ে মেসোপটেমিয়া সভ্যতাকে বিভক্ত করা হয়। যথা: সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশেরীয় সভ্যতা এবং ক্যালডীয় সভ্যতা।
নিম্নে আলোচনা করা হল:
সুমেরীয় সভ্যতা: সুমেরীয়দের আয়ের মূল উৎস ছিল কৃষি। উন্নত সেচ পদ্ধতি তারাই গড়ে তোলে।
সুমেরীয়রা কিউনিফর্ম নামে অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি উদ্ভাবন করেছিল।
কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা 'গিলগামেশ' বিশ্বের সব চেয়ে প্রাচীনতম মহাকাব্য।
সুমেরীয়দের আবিষ্কার: চাকা, পাটিগণিতের গুণ পদ্ধতি, চন্দ্রপঞ্জিকা, জলঘড়ি।
সুমেরীয়দের প্রধান দেবতা সূর্যদেবতা শামস।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা: ব্যাবিলনীয় সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা ছিল সারগন এবং শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন হাম্বুরাবী।
হাম্বুরাবী নগর রাষ্ট্রকে একত্রিত করে অখণ্ড সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
হাম্বুরাবী মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করেন।
হাম্বুরাবী শাসনকালকে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়।
সর্বপ্রথম সৌর পঞ্জিকার প্রচলন ঘটে ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।
অ্যাশেরীয় সভ্যতা: মেসোপটেমিয়ার উত্তরে টাইগ্রিস/দজলা নদীর তীরে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
অ্যাশেরীয় যোদ্ধারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। রাজধানী ছিল- নিনেভা।
যুদ্ধবিদ্যার দক্ষ অ্যাশেরীয়দের আয়ের প্রধান উৎস ছিল বিভিন্ন দেশ আক্রমণ করে লুট করা।
সম্রাট আসুরবানিপাল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন।
অবদান: সর্বপ্রথম অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করা, বৃত্তকে ৩৬০° কোণে ভাগ।
ক্যালডীয় সভ্যতা: নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামে পরিচিতি লাভ করেছিল ক্যালডীয় সভ্যতা।
রাজা নেবুচাঁদনেজার ব্যবিলনের ঝুলন্ত বা শূন্য উদ্যান তৈরি করেছিল।
ক্যালডীয়রা রাশিচক্রের প্রাচীন কুসংস্কারের সৃষ্টি করেছিল।
অবদান: ৭ দিনে সপ্তাহ গণনা, প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টাতে ভাগ, ১২টি নক্ষত্রের সন্ধান।
পারস্য সম্রাট সাইরাসের আক্রমণে ক্যালডীয় তথা মেসোপটেমীয় সভ্যতার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে।
পারস্য সভ্যতা: আনশান রাষ্ট্রের শাসনকর্তা সাইরাস জয় করেছিলেন লিডিয়া। পরবর্তীতে ভোগ বিলাশে মত্ত লিডিয়া সাম্রাজ্যকে দখল করেন, অতঃপর ব্যবিলনের মত শক্তিশালী রাজ্যগুলো জয় করে প্রতিষ্ঠা করেন শক্তিশালী আকামেদিক সাম্রাজ্য তথা পারসা সাম্রাজ্য। পারসা সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন মহান দরিয়ুস। দারিয়ুস ম্যারাথনের যুদ্ধে গ্রিকদের কাছে পরাজিত হন। পারস্য সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয় মহাবীর আলেকজান্ডারের হাতে। বর্তমান ইরান প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল। আকামেদিক সভ্যতা পারসা সভ্যতার অপর নামে ছিল।