খাদ্য ও পুষ্টি
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকেই স্বাস্থ্য বলে। স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি নিম্নের কর্মের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়। যথা -
- দৈনন্দিন কাজ কর্মে স্বাস্থ্য সচেতনতা।
- খাদ্যাভ্যাসে স্বাস্থ্য সচেতনতা।
- অসুখ নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা।
- আচার আচরণে স্বাস্থ্য সচেতনতা।
শ্রেণী বিভাগ:
| শ্রেণী |
উদাহরণ |
শ্রেণী |
উদাহরণ |
| শর্করা |
আলু, চাল, গুড়, চিড়া, গম, মুড়ি, ভুট্টা, চিনি |
ভিটামিন |
সবুজ শাক-সবজি, দুধ, ডিম, ফল |
| আমিষ |
ডাল, মাছ, দুধ, মাংস, ডিম, সিমের বিচি |
লবণ |
ফল, কলিজা, মাখন, মাছ |
| স্নেহ |
মাখন, ঘি, চর্বি, তেল |
পানি |
নিরাপদ পানি |
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট - জৈব রাসায়নিক পদার্থ। মোট খাদ্যের ৫০-৬০ ভাগ শর্করা থেকে আসে।
- শর্করা জীবদেহের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। শর্করা শরীরে তাপ শক্তি সরবরাহ করে।
- শর্করা উদ্ভিদের দেহ গঠনকারী পদার্থগুলোর কার্বন কাঠামো প্রদান করে।
- শর্করা ফ্যাটি এসিড এবং অ্যামিনো এসিড বিপাকে সাহায্য করে।
প্রোটিন বা আমিষ (একক- অ্যামিনো এসিড)
- প্রাণের প্রধান উপাদান হল প্রোটিন বা আমিষ। প্রোটিন কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।
- দেহের অস্থি, পেশি, রক্ত কণিকা, দাঁত, চুল, নখ প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
- দেহের ক্ষতস্থানের ক্ষয়পূরণ করে প্রোটিন। আবার অ্যান্টিবডি তৈরি করে দেহকে রোগ প্রতিরোধী করে।
- প্রোটিনের অভাব হলে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
- প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে কোয়াশিয়রকর রোগ হতে পারে।
স্নেহ
- স্নেহ পদার্থ - গ্লিসারল ও ফ্যাটি এসিডসমূহের ট্রাই-এস্টার। দৈনিক মোট শক্তির ২০%-৩০% শক্তি স্নেহ থেকে আসে।
- দেহে শক্তি সরবরাহ করে। তাপ শক্তি উৎপন্ন করা ফ্যাট জাতীয় বা স্নেহ জাতীয় খাদ্যের প্রধান কাজ।
- ত্বককে মসৃণ এবং প্রাণিদেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। A, D, E, K ভিটামিনকে দ্রবীভূত করে।
ভিটামিন
যে বিশেষ জৈব উপাদান সাধারণ খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাকে ভিটামিন বলে।
ভিটামিন দুই প্রকার। যথা -
১। স্নেহ বা তেল জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হল - A, D, E, K
২। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হল - ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, B, C
- জীব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
- প্রধান কাজ হল রোগ প্রতিরোধ করা। ভিটামিনের অপর নাম হল খাদ্য প্রাণ।